Ticker

6/recent/ticker-posts

তারাবির নামাজের চার রাকাত পরপর দোয়া আরবিতে

তারাবির নামাজের চার রাকাত পরপর দোয়া আরবিতে


পবিত্র রমজান মাসে তারাবির নামাজ পড়তে হয়। অনেকেই তারাবির নামাজ কত রাকাত পড়তে হয় এবং তারাবির নামাজের পরে কোন দোয়া পড়তে হয় সে সম্পর্কে জানেনা। তাই আমাদের আজকের এই পোস্টে আলোচ্য বিষয় হলো তারাবির নামাজের চার রাকাত পরপর দোয়া আরবিতে।




আমরা আজকের এই পোস্টে আলোচনা করব তারাবির নামাজ কত রাকাত,তারাবির নামাজ সুন্নত নাকি নফল,তারাবির নামাজ ৮ রাকাত পড়া যাবে কি, তারাবির নামাজের চার রাকাত পরপর দোয়া আরবিতে, তারাবির নামাজের মোনাজাত বাংলা অর্থ সহ। 



তারাবির নামাজ কত রাকাত



অনেক মুসলমানের মনে প্রশ্ন থাকে যে তারাবির নামাজ ২০ রাকাত না ৮ রাকাত। মূলত তারাবির নামাজ ২০ রাকাত। তবে তারাবির নামাজ ২ রাকাত এর নিয়ত করে ৮ রাকাত বা ১২ রাকাত ও পড়া যাবে।



তারাবির নামাজ সুন্নত নাকি নফল


অনেক ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা মনে করে তারাবির নামাজ নফল নামাজ। তবে তারাবির নামাজ নফল নামাজ নয়। তারাবির নামাজ সুন্নতে মুয়াক্কাদা নামাজ। পবিত্র রমজান মাসে এশার নামাজের পরে এবং বেতের নামাজের আগে এই তারাবির নামাজ ২ রাকাত নিয়ত করে ৮ রাকাত ১২ রাকাত বা ২০ রাকাত পড়া হয়।



তারাবির নামাজ ৮ রাকাত পড়া যাবে কি




তারাবির নামাজ করা যাবে কিনা এ নিয়ে ইসলামে অনেক মতভেদ রয়েছে। তবে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সময় রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তারাবির নামাজ ২০ রাকাত আদায় করতেন। তাই তারাবির নামাজ ২০ রাকাত আদায় করা উত্তম। পরবর্তীতে সাহাবীদের আমল থেকে প্রমাণিত হয় যে তারাবির নামাজ রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ২০ রাকাত আদায় করতেন। 


এ সম্পর্কেি বাইহাকি ও আস সুনানুল কুবরা হাদিসে এসেছে, সায়েব ইবনে ইয়াজিদ (রাঃ) বর্ণনা করে বলেন, হযরত ওমর (রাঃ) এর যুগে মুসলিমরা বিশ রাকাত তারাবি আদায় করতেন। হজরত উসমান (রাঃ)এর সময়ও বিশ রাকাত তারাবি পড়তেন এবং তারাবির নামাজে দীর্ঘ সময় ধরে কোরআন তেলাওয়াত করতেন। এবং হযরত আলী (রাঃ) ২০ রাকাত তারাবি নামাজ আদায়ের অনুমতি দেন এবং মুসলিমদের তা পালনের নির্দেশনা দেন।


উপরের হাদিস থেকে স্পষ্ট বোঝা যায় যে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ও সাহাবীগণ তারাবির নামাজ ২০ রাকাত আদায় করতেন।তবে ১২৮৪ সালে প্রথমবার ভারতবর্ষে কিছু আহলে হাদিস আলেমগণ ৮ রাকাত তারাবি নামাজের ফতোয়া দেন। তবে এর কোন সহিহ শুদ্ধ হাদিস পাওয়া যায়নি। তবে তারাবির নামাজ যে ২০ রাকাত পড়তে হবে তার কোন বাধ্যবাধকতা নেই।তারাবির নামাজ ৮ রাকাত ১২ রাকাত ও পড়া যেতে পারে।



তারাবির নামাজের চার রাকাত পরপর দোয়া আরবিতে



পবিত্র রমজান মাসে তারাবির নামাজের অনেক ফজিলত রয়েছে। এর সম্পর্কে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ”যে ব্যক্তি রমজানের রাতে তারাবির নামাজ ঈমানের সঙ্গে সওয়াবের নিয়তে পড়বে তার জীবনের আগের সব গুনাহ মাফ হয়ে যাবে।” তারাবির নামাজ দুই রাকাত নিয়ত করে মোট ২০ রাকাত আদায় করা হয়।


তারাবির নামাজ ২ রাকাত ২ রাকাত করে ৪ রাকাত নামাজ পড়ার পরে বিশ্রাম নেওয়া উত্তম। এ সময় দোয়া ও দরুদ শরীফ পাঠ করা যেতে পারে। আমাদের দেশে ৪ রাকাত তারাবি নামাজ আদায় করার পরে একটি দোয়া করার প্রচলন রয়েছে। নিচে দোয়াটি দেওয়া হলো:


আরবি উচ্চারণঃ سُبْحانَ ذِي الْمُلْكِ وَالْمَلَكُوتِ سُبْحانَ ذِي الْعِزَّةِ وَالْعَظْمَةِ وَالْهَيْبَةِ وَالْقُدْرَةِ وَالْكِبْرِيَاءِ وَالْجَبَرُوْتِ سُبْحَانَ الْمَلِكِ الْحَيِّ الَّذِيْ لَا يَنَامُ وَلَا يَمُوْتُ اَبَدًا اَبَدَ سُبُّوْحٌ قُدُّوْسٌ رَبُّنا وَرَبُّ المْلائِكَةِ وَالرُّوْحِ


বাংলা উচ্চারণঃ “সুবহানা জিল মুলকি ওয়াল মালাকুতি, সুবহানা জিল ইয্যাতি ওয়াল আঝমাতি ওয়াল হায়বাতি ওয়াল কুদরাতি ওয়াল কিব্রিয়ায়ি ওয়াল ঝাবারুতি। সুবহানাল মালিকিল হাইয়্যিল্লাজি লা ইয়ানামু ওয়া লা ইয়ামুত আবাদান আবাদ, সুব্বুহুন কুদ্দুসুন রাব্বুনা ওয়া রাব্বুল মালায়িকাতি ওয়ার রূহ।”



তারাবির নামাজের মোনাজাত বাংলা অর্থ সহ




মোনাজাতের মাধ্যমে আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করা যায়। প্রতি পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের পর মোনাজাত করা যেতে পারে। তারাবির নামাজের পরেও আমাদের দেশে মোনাজাতের প্রচলন রয়েছে। তবে মোনাজাতের কোন নির্দিষ্ট দোয়া নেই।  তারাবির নামাজের মুসল্লীরা নিম্নক্ত দোয়াটি পাঠ করে থাকেন। তবে এই দোয়া সম্পর্কে নির্দিষ্ট কোন হাদিস নেই।নিচে দোয়াটি দেওয়া হলো:



আরবি উচ্চারণঃ اَللَهُمَّ اِنَّا نَسْئَالُكَ الْجَنَّةَ وَ نَعُوْذُبِكَ مِنَ النَّارِ يَا خَالِقَ الْجَنَّةَ وَالنَّارِ- بِرَحْمَتِكَ يَاعَزِيْزُ يَا غَفَّارُ يَا كَرِيْمُ يَا سَتَّارُ يَا رَحِيْمُ يَاجَبَّارُ يَاخَالِقُ يَابَارُّ - اَللَّهُمَّ اَجِرْنَا مِنَ النَّارِ يَا مُجِيْرُ يَا مُجِيْرُ يَا مُجِيْرُ- بِرَحْمَتِكَ يَا اَرْحَمَ الرَّحِمِيْنَ


বাংলা উচ্চারণঃ “আল্লাহুম্মা ইন্না-নাসআলুকাল জান্নাতা ওয়া নাউজুবিকা মিনাননার। ইয়া খ-লিক্বল জান্নাতা ওয়ান্নার। বিরাহমাতিকা ইয়া-আজিজু ইয়া-গাফফারু, ইয়া-ক্বারিমু ইয়া-সাত্তারু, ইয়া-রাহিমু ইয়া-জাব্বারু, ইয়া-খলিকু ইয়া-বারর। আল্লাহুম্মা আজিরনা-মিনান্নার। ইয়া-মুজিরু, ইয়া-মুজিরু, ইয়া-মুজিরু। বিরহমাতিকা ইয়া-আরহামার রাহিমিন।”



উপরোক্ত দোয়াটি পড়ে মোনাজাত করা যেতে পারে। এছাড়াও নিজের মতো করে মোনাজাত করা যেতে পারে।



সর্বোপরি আমাদের আজকের এই পোষ্টের মাধ্যমে আপনারা তারাবি নামাজ সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য জানতে পারবেন।

Post a Comment

0 Comments