Ticker

6/recent/ticker-posts

নফল রোজার নিয়ত বাংলা উচ্চারণ

নফল রোজার নিয়ত বাংলা উচ্চারণ


পবিত্র রমজান মাসের রোজা প্রত্যেক মুসলিম নর-নারীর উপরে আল্লাহ তা’আলা ফরজ করেছেন। পবিত্র রমজান মাস ছাড়াও অন্য সময়ের রোজা রাখা যায়। সেই রোজাকে নফল রোজা বলা হয়।এছাড়াও ওয়াজিব রোজা বা কাজা বা কাফফারা রোজা রয়েছে। তাই আমাদের আজকের এই পোষ্টের আলোচ্য বিষয় হলো নফল রোজার নিয়ত বাংলা উচ্চারণ।




আমরা আজ এই পোস্টে আলোচনা করব নফল রোজার নিয়ত বাংলা উচ্চারণ, সেহেরির দোয়া বাংলা উচ্চারণ, ইফতরের দোয়া বাংলা উচ্চারণ, নফল রোজার নিয়ত কখন করতে হয়, ইফতার করানোর ফজিলত।



নফল রোজার নিয়ত বাংলা উচ্চারণ


অনেকেই বিভিন্ন কারণে নফল রোজা রাখতে চাই।তবে নফল রোজার নিয়ত কিভাবে করতে হয় সে সম্পর্কে অনেকেরই অজানা। ফরজ রোজার মত নফল রোজার ক্ষেত্রে নিয়ত করতে হয়। তবে এক্ষেত্রে সেহরি খাওয়ার পর পর নিয়ত করতে হবে এর কোন বিধান নেই। যদি কোন ব্যক্তি রাতে নফল রোজার নিয়ত করে ঘুমায় সে যদি সুবে সাদিক এরপরে ঘুম থেকে উঠে তাহলে তার রোজা হয়ে যাবে।যদি এ রাতে ঘুমানোর আগে কেউ নকল রোজার নিয়ত এভাবে করে যে ”আমি আগামীকাল নকল রোজা রাখব বা নফল রোজার নিয়ত করলাম” তাহলে তার রোজার নিয়ত হয়ে যাবে।



সেহেরির দোয়া বাংলা উচ্চারণ



আল্লাহ তাআলা প্রত্যেক মুসলমানদের জন্য অত্যন্ত ফজিলতপূর্ণ একটি মাস রমজান মাস দিয়েছেন। যে মাসে ইবাদতের মাধ্যমে গুনাহ মাফ করানো যায় এবং হাজার মাসের ইবাদতের সওয়াব পাওয়া যায়।রমজান মাসে সেহেরী ও ইফতার করা সুন্নাত। রমজান মাসের ফরজ রোজা নিয়ত সেহরি খাওয়ার পরপর করতে হবে তার কোন বিধান নেই। যদি রোজার নিয়ত করতে মনে না থাকে তাহলে সূর্য মাথার উপর ঢলে যাওয়ার আগে নিয়ত করলে রোজা হয়ে যাবে।নিচে সেহরির দোয়া আরবি ও বাংলা উচ্চারণ দেওয়া হল:



আরবি উচ্চারণ : نَوَيْتُ اَنْ اُصُوْمَ غَدًا مِّنْ شَهْرِ رَمْضَانَ الْمُبَارَكِ فَرْضَا لَكَ يَا اللهُ فَتَقَبَّل مِنِّى اِنَّكَ اَنْتَ السَّمِيْعُ الْعَلِيْم


বাংলা উচ্চারণ:”নাওয়াইতু আন আছুমা গাদাম, মিন শাহরি রমাদানাল মুবারাক; ফারদাল্লাকা ইয়া আল্লাহু, ফাতাকাব্বাল মিন্নি ইন্নিকা আনতাস সামিউল আলিম।”


বাংলা অর্থ : ”হে আল্লাহ! আমি আগামীকাল পবিত্র রমজানের তোমার পক্ষ থেকে নির্ধারিত ফরজ রোজা রাখার ইচ্ছা পোষণ (নিয়্যত) করলাম। অতএব তুমি আমার পক্ষ থেকে (আমার রোযা তথা পানাহার থেকে বিরত থাকাকে) কবুল কর, নিশ্চয়ই তুমি সর্বশ্রোতা ও সর্বজ্ঞানী।”


ফরজ, নফল, ওয়াজিব বা কাজা বা কাফফারা যেকোনো রোজার নিয়ত করা জরুরি । কারণ রোজার নিয়ত না করলে রোজা হয় না।



ইফতরের দোয়া বাংলা উচ্চারণ


রাতে সেহরি খাওয়া শেষ করে রোজার নিয়ত করে সারাদিন রোজা রেখে ইফতারের সময় ইফতারের দোয়া পড়া সুন্নাত।নিচে ইফতারের দোয়া আরবি ও বাংলা উচ্চারণ দেওয়া হল: 




আরবি উচ্চারণ: بسم الله اَللَّهُمَّ لَكَ صُمْتُ وَ عَلَى رِزْقِكَ اَفْطَرْتُ


বাংলা উচ্চারণ: “আল্লাহুম্মা লাকা ছুমতু ওয়া আলা রিযক্বিকা ওয়া আফতারতু বিরাহমাতিকা ইয়া আরহামার রাহিমিন।”


বাংলা অর্থ: “হে আল্লাহ! আমি তোমারই সন্তুষ্টির জন্য রোজা রেখেছি এবং তোমারই দেয়া রিজিজের মাধ্যমে ইফতার করছি।”



ইফতার সম্পর্কে তিরমিজি হাদিস শরীফে এসেছে, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, আল্লাহ তা’আলা বলেন, আমার বান্দাদের মধ্যে আমার কাছে অধিকতর প্রিয় তারাই, যারা আগেভাগে ইফতার করে।”



নফল রোজার নিয়ত কখন করতে হয়


নফল রোজার রোজায় সেহরি খাওয়া জরুরী নয়, তবে নিয়ত করা জরুরি। যদি কেউ রাতে ঘুমানোর আগে নফল রোজার নিয়ত করে তাহলে তার রোজা হয়ে যাবে এছাড়াও যদি সে সুবহে সাদিকের পরে সূর্য মাথার উপর ঢলে যাওয়ার আগে নিয়ত করে তাহলে তার রোজা হয়ে যাবে। তাই নফল রোজার নিয়ত রাত থেকে সূর্য মাথার উপর ঢোলে যাওয়ার আগ পর্যন্ত করা যায়।



ইফতার করানোর ফজিলত



ইফতার করানোর ফজিলত অনেক। এছাড়াও ইফতার সম্পর্কে হাদিসে বহু হাদিস বর্ণনা করা হয়েছে। নিচে ইফতার করানোর ফজিলত এবং হাদিস দেওয়া হল:



ইফতার সম্পর্কে সহিহ বুখারী হাদীসে এসেছে, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, “যখন রাত্র সেদিক থেকে ঘনিয়ে আসে, ও দিন এদিক থেকে চলে যায় এবং সূর্য ডুবে যায়, তখন রোজাদার ইফতার করবে।”

 


এ সম্পর্কে সহিহ তিরমিজি ও আবু দাউদ হাদিসে এসেছে, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, ”তোমাদের কেউ রোজা রাখলে খেজুর দিয়ে যেন ইফতার করে, খেজুর না হলে পানি দ্বারা; নিশ্চয়ই পানি পবিত্র ।” যেহেতু রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম খেজুর দ্বারা ইফতার করতে বলেছেন তাই খেজুর দ্বারা ইফতার করা সুন্নাত।



এছাড়াও সহীহ বুখারী হাদিসে এসেছে, হজরত সাহল ইবনে সাআদ (রা:) বর্ণনা করেন,রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন বলেন, ”যত দিন লোকেরা ওয়াক্ত হওয়া মাত্র ইফতার করবে, তত দিন তারা কল্যাণের ওপর থাকবে।”





ইফতারের ফজিলত সম্পর্কে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন,”যে ব্যক্তি কোনো রোজাদারকে ইফতার করাবে, তার গুনাহ মাফ হয়ে যাবে, সে জাহান্নাম থেকে মুক্তি লাভ করবে এবং রোজাদারের সওয়াবের সমপরিমাণ সওয়াব সে লাভ করবে। তবে ওই রোজাদারের সওয়াব কম করা হবে না।”



মুসনাদে আহমাদ হাদিসে এসেছে, সাহাবায়ে কিরাম রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম  বললেন, ‘ইয়া রাসুলুল্লাহ (সা:),”পানিমিশ্রিত এক পেয়ালা দুধ বা একটি খেজুর অথবা এক ঢোঁক পানি দ্বারাও যদি কেউ কোনো রোজাদারকে ইফতার করায়, তাতেও সেই পরিমাণ সওয়াব পাবে। আর যে ব্যক্তি কোনো রোজাদারকে তৃপ্তিসহকারে আহার করাবে, আল্লাহ তাআলা তাকে আমার হাউসে কাউসার থেকে এমন পানীয় পান করাবেন, যার ফলে সে জান্নাতে প্রবেশ করার পূর্ব পর্যন্ত তৃষ্ণার্ত হবে না।”



সর্বোপরি আমাদের আজকের এই পোষ্টের মাধ্যমে আপনারা নকল রোজার নিয়ত সেহেরী ও ইফতারের দোয়া ইফতারের ফজিলত সম্পর্কে জানতে পারবেন।

Post a Comment

0 Comments