Ticker

6/recent/ticker-posts

শবে বরাত কি কেন পালন করা হয়

শবে বরাত কি কেন পালন করা হয়


শবে বরাত হল আরবি শাবান মাসের মধ্য রজনী বা রাত। বিশ্বের ধর্মপ্রাণ মুসলমানেরা ক্ষমা পাওয়ার আশায় এ রাতে নামাজ, দোয়া বা বিভিন্ন ধরনের আমল করে থাকেন । তাই আমাদের আজকের এই পোস্টের আলোচ্য বিষয় হলো শবে বরাত কি কেন পালন করা হয়।




আমরা আর এই পোস্টে আলোচনা করব শবে বরাত কি কেন পালন করা হয়,শবে বরাত আরবি মাসের কত তারিখ, শবে বরাতের নামাজ কত রাকাত,শবে বরাতের নামাজ কোন সূরা দিয়ে পড়তে হয়, শবে বরাত নামাজের নিয়ত, শবে বরাতের ফজিলত।



শবে বরাত কি কেন পালন করা হয়



শবে বরাত বা লাইলাতুল বরাত হল শাবান মাসের মধ্য রজনী বা রাত। মুসলমানদের জন্য এরা খুবই গুরুত্বপূর্ণ এবং ফজিলতপূর্ণ। কারণ এ রাতে আল্লাহ তা’আলা পাপীদের ক্ষমা করে দেন। এজন্য ধর্মপ্রাণ মুসল্লীরা ক্ষমা পাওয়ার আশায় এ রাতে বিভিন্ন ধরনের আমল করে থাকেন।




শবে বরাত আরবি মাসের কত তারিখ




শবে বরাত আরবি শাবান মাসের ১৪ ও ১৫ তারিখের মধ্যবর্তী রাত বা রজনী।




শবে বরাতের নামাজ কত রাকাত




শবে বরাতের রাতে নির্দিষ্ট কোন নামাজের কথা হাদিসে নেই। তেবে বেশি বেশি নফল নামাজ পাড়া যেতে পারে।এ রাতে কাজা নামাজ পড়া যেতে পারে এবং কোরআন তেলাওয়াত করা যেতে পারে।নফল  ইবাদতের মাধ্যমে আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাইতে হবে।নফল এবাদতের মাধ্যমে আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাইতে হবে।



শবে বরাতের নামাজ কোন সূরা দিয়ে পড়তে হয়




শবে বরাতের রাতে বেশি বেশি নফল ইবাদাত করতে হয় নফল ইবাদাতের মধ্যে সর্ব উত্তম ইবাদাত হল নামাজ। তাই এ রাতে বেশি বেশি নামাজ নফল নামাজ আদায় করতে হবে। অনেকেই মনে করেন শবে বরাতের নফল নামাজে নির্দিষ্ট কোন সূরা পড়তে হয়। এ সম্পর্কে কোন হাদিস নেই। তবে নফল নামাজের সূরা ফাতিহা পাঠ করার পরে সূরা ইখলাস তিনবার করা যেতে পারে।


এছাড়াও শবে বরাতের রাতে বেশি বেশি কোরআন তেলাওয়াত করা তওবা বা ইস্তেগফার পড়া বেশি বেশি দোয়া বা জিকির করা এবং আল্লাহর কাছে বেশি বেশি ক্ষমা প্রার্থনা করা।




শবে বরাত নামাজের নিয়ত



শবে বরাত হলো মুক্তির রাত বা ক্ষমা চাওয়ার রাত। তাই এ রাতে বেশি বেশি নফল নামাজের মাধ্যমে আল্লাহর নিকট ক্ষমা চাইতে হবে । এ রাতে নফল নামাজ ৪ রাকাত ৮ রাকাত ১২ রাকাত থেকে শুরু করে ১০০ রাকাত পর্যন্ত পড়া যেতে পারে। অনেকেই শবে বরাতের নফল নামাজের নিয়ত জানে না। তাই নিচে শবে বরাতের নফল নামাজের নিয়ত দেওয়া হলঃ






আরবি উচ্চারণঃ নাওয়াইতুআন্ উছল্লিয়া লিল্লা-হি তাআ-লা- রাকআতাই ছালা-তি লাইলাতিল বারা-তিন্ -নাফলি, মুতাওয়াজ্জিহান ইলা-জিহাতিল্ কাবাতিশ্ শারীফাতি আল্লা-হু আকবার।


যদি কেউ বাংলায় নিয়ত করতে চাই তাহলে এভাবে নিয়ত করবে ‘শবে বরাতের দুই রাকাত নফল নামাজ কিবলামুখী আদায় করছি, আল্লাহু আকবর’।




শবে বরাত সম্পর্কে হাদিস




ইবনে মাজাহ, ইবনে হিব্বানসহ একাধিক হাদিসে এসেছে,”হজরত মুআজ ইবনে জাবাল (রাঃ) বর্ণনা করেন, রাসূল (সাঃ) বলেছেন, আল্লাহ তা’আলা অর্ধশাবানের রাতে মাখলুকাতের দিকে রহমতের দৃষ্টি দেন এবং মুশরিক ও বিদ্বেষ পোষণকারী ছাড়া আর সবাইকে ক্ষমা করে দেন।”


এছাড়াও রাসূল (সাঃ) বলেন, ”এটা হলো অর্ধ শাবানের রাত। এ রাতে আল্লাহ তা’আলা তাঁর বান্দাদের প্রতি মনোযোগ দেন, ক্ষমাপ্রার্থনাকারীদের ক্ষমা করে দেন, অনুগ্রহপ্রার্থীদের অনুগ্রহ করেন। আর বিদ্বেষ পোষণকারীদের তাদের অবস্থাতেই ছেড়ে দেন”।



শবে বরাতের রাত সম্পর্কে শুআবুল ইমান হাদিসে এসেছে, হজরত আয়শা সিদ্দিকা (রাঃ) বলেন, একবার রাসুলুল্লাহ (সাঃ) নামাজে দাঁড়ালেন এবং এত দীর্ঘ সিজদা করলেন যে আমার ধারণা হলো তিনি মৃত্যুবরণ করেছেন। আমি তখন উঠে তাঁর পায়ের বৃদ্ধাঙ্গুলি নাড়া দিলাম, তাঁর বৃদ্ধাঙ্গুলি নড়ল; তিনি সিজদা থেকে উঠলেন এবং নামাজ শেষ করে আমাকে লক্ষ করে বললেন, “হে আয়শা! তোমার কি  আশঙ্কা হয়েছে?” আমি উত্তরে বললাম, ‘ইয়া রাসুলুল্লাহ (সাঃ), আপনার দীর্ঘ সিজদা থেকে আমার আশঙ্কা হয়েছিল আপনি মৃত্যুবরণ করেছেন কি না।’ নবীজি (সাঃ) বললেন, ‘তুমি কি জানো এটা কোন রাত?’ আমি বললাম, আল্লাহ ও আল্লাহর রাসুলই ভালো জানেন।’ তখন নবীজি (সাঃ) বললেন, ‘এটা হলো অর্ধ শাবানের রাত। এ রাতে আল্লাহ তাআলা তাঁর বান্দাদের প্রতি মনোযোগ দেন, ক্ষমাপ্রার্থনাকারীদের ক্ষমা করে দেন, অনুগ্রহপ্রার্থীদের অনুগ্রহ করেন। আর বিদ্বেষ পোষণকারীদের তাদের অবস্থাতেই ছেড়ে দেন।’ 



এ সম্পর্কে ইবনে মাজাহ হাদিসে এসেছে, রাসুল (সাঃ) বলেন, যখন শাবানের মধ্য দিবস আসবে, তখন তোমরা রাতে নফল ইবাদত করবে ও দিনে রোজা পালন করবে। 
রাসুল (সাঃ) বলেছেন, ১৪ শাবান দিবাগত রাত যখন আসে, তখন তোমরা এ রাত ইবাদত–বন্দেগিতে কাটাও এবং দিনের বেলায় রোজা রাখো। কেননা, এদিন সূর্যাস্তের পর আল্লাহ তাআলা দুনিয়ার আসমানে নেমে আসেন এবং আহ্বান করেন, ‘কোনো ক্ষমাপ্রার্থী আছো কি? আমি ক্ষমা করব; কোনো রিজিক প্রার্থী আছ কি? আমি রিজিক দেব; আছ কি কোনো বিপদগ্রস্ত? আমি উদ্ধার করব।’ এভাবে ভোর পর্যন্ত আল্লাহ মানুষের বিভিন্ন প্রয়োজনের কথা উল্লেখ করে আহ্বান করতে থাকেন।



এ সম্পর্কে মুসান্নাফে আব্দুর রাজ্জাক হাদিসে এসেছে, ইবনে উমর রা. বলেন, পাঁচটি রাত এমন রয়েছে যে রাতগুলোতে বান্দা দোয়া করলে সে দোয়া ফিরিয়ে দেওয়া হয়না। ১.জুময়ার রাতের দোয়া ২.রজব মাসের প্রথম রাতের দোয়া ৩. শা'বান মাসের পনেরো তারিখের রাত্রি তথা শবে বরাতের দোয়া। ৪ ও ৫. দুই ঈদের রাতের দোয়া। 



এ সম্পর্কে ইবনে মাজাহ হাদিসে এসেছে, হজরত আয়শা (রাঃ) বর্ণনা করেন, রাসুল (সাঃ) এ রাতে মদিনার কবরস্থান ‘জান্নাতুল বাকি’তে এসে মৃতদের জন্য দোয়া ও ইস্তিগফার করতেন। তিনি আরও বলেন, রাসুল (সাঃ) তাঁকে বলেছেন, এ রাতে বনি কালবের ভেড়া–বকরির পশমের (সংখ্যার পরিমাণের) চেয়েও বেশিসংখ্যক গুনাহগারকে আল্লাহ ক্ষমা করে দেন।



শবে বরাতের ফজিলত



শবে বরাতের রাতের ফজিলত অনেক। রাসূল (সাঃ) এ রাতে নফল ইবাদতের উপরে গুরুত্ব দিতে বলেছেন ।শবে বরাতের রাতে নফল ইবাদতের মাধ্যমে আল্লাহর কাছে বেশি বেশি ক্ষমাপ্রার্থনা করা। কারণ এ রাতে আল্লাহ তাআলা ক্ষমাকারীদের ক্ষমা করে দেন।







এ সম্পর্কে সহীহ মিশকাত হাদিসে এসেছে,যরত আয়শা (রাঃ) থেকে একটি হাদিস বর্ণিত আছে যে, রাসুল (সা”) হযরত আয়শা (রাঃ) কে সম্বোধন করে বললেন, হে আয়শা! এ রাতে কি হয় জান? হযরত আয়শা (রাঃ) বললেন, আল্লাহ ও তাঁর রাসূলই ভালো জানেন। রাসূল (সাঃ) বললেন, এ রাতে আগামী বছর যত শিশু জন্ম নিবে এবং যত লোক মারা যাবে তাদের নাম লেখা হয়, মানুষের বিগত বছরের সব আমল আল্লাহর দরবারে পেশ করা হয় এবং মানুষের রিজিক অবতীর্ণ হয়।




সর্বোপরি আমাদের আজকের এই পোস্টটির মাধ্যমে আপনারা শবে বরাতের নামাজ, ফজিলত বা হাদিস সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য জানতে পারবেন।

Post a Comment

0 Comments